আজকের গল্প - সাদা ধুতি
ব্যাপারটা আমি লক্ষ্য করেছি অনেক বছর হলো, তবে খুব একটা ভাবিনি এটা নিয়ে আগে। গত সপ্তাহে অনীক দত্তর ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ সিনেমাটা দেখে আবার মনে পড়ে গেল, তাই লিখছি। সিনেমাটায় বরুণবাবু (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) ওঁর ছোটবেলার বন্ধু সুকুমার (পরাণ বন্দোপাধ্যায়)-এর সাজ দেখে “clownish” বলছেন। কারণ সুকুমারের পরনে মেরুন ধুতি। বরুণবাবু বলছেন বেশ বিরক্ত হয়েই - “ধুতি should be white”। আমার মনে হলো উনি আমার মন থেকে কথাটা তুলে নিয়ে বললেন। বাঙালিদের অধঃপাতে যাওয়ার রাস্তায় যা যা আছে তার মধ্যে এই রঙিন ধুতি অবশ্যই একটা।
মনে আছে আমার গরমকালের বিয়েবাড়ি বা সকালবেলার কোনও অনুষ্ঠান হলে বাবা-কাকাদের (দাদুদেরও মনে পড়ে) দেখেছি সাদা ধুতি পরতে আর শীতকালের সন্ধ্যের বিয়েবাড়িতে কোৱা ধুতি। বাঙালি ভদ্রলোকের আর কোনও চেহারা মনে পড়ে না। গিলে করা পাঞ্জাবির হাতা মনে পড়ছে, সন্ধ্যেবেলা বিয়েবাড়ি যাওয়ার আগে ধুতি চুনট করা হচ্ছে সেটাও মনে আছে। ওতেই তো ওদের দিব্যি ভালো দেখাত। এমনকি আমার খুব ছোটবেলার কিছু স্মৃতির মধ্যে আছে যে আমরা দল বেঁধে আমার ছোটকাকিমার (মাম) এক বোন এর বিয়েতে যাচ্ছি, আর রাস্তায় আমাদের বুড়ো Austin 40 র ব্রেকডাউন হয়েছে। তখন আমার mechanical engineer মেজোকাকা (কাকুন) ধুতি পরা অবস্থায় রাস্তায় শুয়ে গাড়ির তলায় কলকব্জা নাড়ানাড়ি করছে। (পরের পার্টটা আর মনে নেই, মায়ের কাছে শুনেছি আমরা বিভিন্ন ছোট ছোট দল করে রিকশা চড়ে বিয়েবাড়ি পৌঁছেছিলাম।)
বাঙালি বিয়ের বর কেও ধুতি-পাঞ্জাবিতে সব থেকে ভালো মানিয়ে যায়। কবে থেকে (আর কেন) যে বাঙালি ছেলেরা শেরওয়ানি-চুড়িদার পরা শুরু করলো তা আমি জানি না। আজকাল সবাই কেন যে একমুখ নোংরা হাফ-ছাঁটা দাড়ি রাখছে আমি সেটাও জানি না।
আমাদের পাড়ার এক কাকা ৬০-এর দশকে খুব রংচঙা বড়ো কলার দেওয়া শার্ট পরে বিকেলবেলা একটু কায়দা দেখাচ্ছিল। তাকে দেখে এক মাতাল বাণী দিয়ে গেছিলো - “তুমি ভাবছো তোমায় খুব সুইট (shweet) দেখাচ্ছে, আসলে কিন্তু দেখাচ্ছে না।” বাঙালি বললেই মনে হয় ভালো রুচিসম্পন্ন মানুষ। তবে তারা বোধহয় দূরে যেতে যেতে প্রায় মিলিয়েই যাচ্ছে। এরা শেষ হয়ে যাওয়ার আগে সেই মাতালকে একটু ডেকে আনা যায় না কি আর?
Comments
Post a Comment