Posts

Showing posts from June, 2018

আজকের গল্প - বাঙালি মানুষ করো

আচ্ছা বাঙালি বলতে আপনার কি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালির কথা মনে পড়ে ? মানে এই বাসে , ট্রামে যাদের দেখা যায় অফিস টাইম - এ ? বা গড়িয়াহাট বাজারে ? আমার তো মনে হয় তাদের কথা। আজকাল আর তারা আছে কিনা জানিনা , কারণ রাস্তায় ঘাটে কেন যে আজকাল মানুষ “ দিদি ” না বলে “ ম্যাডাম ” বলে ডাকে বুঝতে পারিনা। যাই হোক , ওই শপিং মলে যাওয়া ম্যাডাম বা স্যার - দের আমি চিনিনা। আমি যাদের কথা বলছি তারা বাংলায় কথা বলে , যাদের আমরা এখনও “ কাকু ” বা “ মাসিমা ” বলে ডাকবো রাস্তায় দেখা হলে।   এই বাঙালি বাড়ির মা - বাবাদের কিছু patent dialogue আছে তাদের ছেলে মেয়েদের সঙ্গে। এখনকার বাবা - মায়েরা হয়তো বাচ্চাদের মারধর করেন না , বা তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশেন। আগের জেনারেশন - এর বাবা মায়েরা কিন্তু ভুলেও এমনটি করেননি। সবথেকে বিরক্তিকর যে কথাটা আমরা সবথেকে বেশিবার শুনেছি সেটা হল - “ পড়তে বসো ” । এখনও বোধহয় ঘুমের মধ্যে শুনলেও আঁতকে উঠবো , হ্যাঁ এই এতো বছর পরেও। ওই “ পড়তে বসো ” বলার corollary ছিল...

আজকের গল্প - আমি কে?

আমরা যে এই ১৫ - ১৬ বছর থেকে নিজেদের বেশ একটা কেউকেটা ভাবতে শুরু করি সেটা নিয়ে ভেবে দেখেছেন কখনো ? “ আমি বেশ আমার নিজের মত ” ভাবতে ভালোই লাগে। সেই নিয়ে অনেক ঝামেলাও করি। কিন্তু এখন আমি পৃথিবীর থেকে ৩৫ হাজার ফুট ওপরে ভাসতে ভাসতে ভাবছি এই কথাটার কোনও মানেই হয় না। না , না , পেট গরম করে ভুলভাল স্বপ্ন দেখছি না। আমি আসলে তখন হাওয়াই থেকে সিয়াটেল ফিরছিলাম , আর একা বসেছিলাম কারণ অর্ণবের আর আমার সিট একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। সোয়া পাঁচ ঘন্টা মুখে কুলুপ এঁটে থাকা। মাঝে মাঝে “ থ্যাংক ইউ ”, কি “ এক্সকিউজ মী ”, আর “ ইয়েস , আই উড হ্যাভ সাম ওয়াটার ” বলেছি বটে , তবে পুরো সময়ের মধ্যে ওগুলো নগণ্য। তো যাই হোক , ঐখানে শূন্যে ভেসে ভেসে মনে হল যে আমরা যে এই “ আমরা ” হলাম , সেটা হলাম কি করে ?   জন্মের মধ্যে দিয়েই তো বেশির ভাগ জিনিস যা আমাদের “ আমরা ” বানায় সেগুলো আসে। কে কতটা লম্বা হবে , কার চোখের রং কি , চুল পাকবে কবে , বা টাক পড়বে কি না সেসবের ওপর আমাদের কোনও ...

আজকের গল্প - জাব্দার গোড়ার কথা

হঠাৎ একটা খাতা বানানোর ইচ্ছে কেন হলো সেই কথাই আগে বলবো। মানুষের হাতে - খড়ি যেমন হয় , তেমন মনের হাতে - খড়িও হয়। আমার আসল হাতে - খড়ি হয়েছিল কবে মনে নেই , ১৯৮৮ কি ১৯৮৯ এ হবে , ঠিক মনে পড়ছে না তখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে দিয়েছিলাম বোধহয়। আমার মনের হাতে - খড়ি হয় কিন্তু আমার ৩০ পেরিয়ে , লীলা মজুমদার - এর হাতে। গল্প পড়তে ভালোবাসি আমি অনেক দিন ধরে। সেই যখন ক্লাস ফাইভে থাকতে ম্যালেরিয়া হয়েছিল আর আমি একটার পর একটা টেনিদার গল্প শেষ করে ফেলছিলাম , সেই তখন থেকে। তারপরে শরদিন্দু , আগাথা ক্রিস্টি , ফেলুদা , শঙ্কু , আরও কিছু পরে শার্লক হোমস , শরৎচন্দ্র , বিভূতিভূষণ , মুজতবা আলী। তবে লেখার কথা তখন ভাবিনি। লেখার চেষ্টা প্রথম করি শরদিন্দু পড়ে ( আমার মা বলে “ টুকে ”) । তবে আমি বিভূতিভূষণের মতো বলি আগুন দিয়েই আগুন জ্বালাতে হয় , ছাইয়ের গাদায় মশাল দিয়ে আর কে কবে আগুন জ্বালাতে পেরেছে ? তবে সেই গল্পগুলো এখন পড়লে হাসি পায়। একটা অর্ধেক লেখা গল্প কয়েকদিন আগে পড়লাম , তাতে নামগ...