Posts

Showing posts from November, 2022

আজকের গল্প - আমার আপ্পাদাদুর বাড়ি

Image
  আমার আপ্পাদাদুর বাড়ি      ১৯২৭ সালে দক্ষিণ কলকাতার (তখন এদিকটাকেই দক্ষিণ বলত) ল্যান্সডাউন রোডের ওপর আমার আপ্পাদাদু একটা বাড়ি করেছিলেন। নিতান্তই গেরস্থ মানুষের থাকবার মতো দোতলা বাড়ি, সামনে রাস্তার দিকে পুবমুখো টানা লম্বা বারান্দা, নীচে বসার ঘর, ভেতর দিকে লম্বা দালানে সবাই বড়ো বড়ো কাঁসার থালা পেতে খেতে বসত সবাই, বিখ্যাত ভিখিরি-ঠাকুর রাজ করতো রান্নাঘরে। দোতলায় তখনকার দিনের ধরণে একটা শ্বেতপাথরের ঘর আছে যেটা এখনকার ভাষায় master bedroom। আমরা বলি “পাথর ঘর”। আর বাকি অনেক ঘর, দালান, বারান্দা, ছাদ এখন ওখান ছড়িয়ে রয়েছে।  আপ্পাদাদু ছিলেন তখনকার অতি বিখ্যাত Martin Burn কোম্পানির civil engineer, আর উনি engineering টা ভাল বুঝতেন। এই বাড়িও তৈরী হয়েছিল কোম্পানির best মালমশলা দিয়ে, একতলার দেওয়াল ২৫ ইঞ্চি চুন-সুড়কির গাঁথুনি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারী ভারী military trucks যাওয়ার vibration ও একটুও crack করেনি। তবে aesthetic sense বলে জিনিসটাকে আপ্পাদাদু বাহুল্য মনে করতেন (আমিও বোধহয় ওই জন্যেই backend development টাই পছন্দ করি বেশি), তাই এই বাড়িতে অদ্ভুত কিছু ব্যাপার আ...

আজকের গল্প - অনন্যসাধারণ সুকুমার

Image
আমার খুব অল্প অল্প মনে আছে যে খুব ছোটবেলায় আমি আবোল-তাবোল থেকে অনেক কবিতা বলতাম। সেই আমার সুকুমার রায়ের সঙ্গে প্রথম আলাপ। তখন তো না বুঝেই বলতাম, তবে মজার লাগত ছবিগুলো সেটা মনে আছে। পরে যখন হয়তো স্কুলের নিচের দিকে পড়ি তখন সুকুমার রচনাসমগ্র থেকে গল্প পড়তে লাগলাম, নানা প্রবন্ধ পড়লাম আর কত কি যে শিখলাম সে তো বলার বাইরে। তখনও কিন্তু সুকুমার রায় কে চেনার বয়স হয়নি আমার। ওঁকে চিনলাম বড় বয়েসে। খুব দুঃখের কথা যে মাত্র কয়েকজনের লেখা ছাড়া আর কিছু নেই এখন ওঁকে জানবার। লীলা মজুমদারের “সুকুমার”, আর পুণ্যলতা চক্রবর্তীর “ছেলেবেলার দিনগুলি” পড়ে জানতে পারলাম এক অনন্যসাধারণ মানুষকে। আজ তাঁর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকেই চেনাব। লীলা মজুমদার লিখেছেন বড়দা যেখানে যেত যেন একটা আনন্দের ঢেউ তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যেত, উনি কোথাও থাকলে আর কারুর দিকে মানুষের চোখ পড়ত না। যে হাস্যরসের সঙ্গে সুকুমারের নাম জড়িয়ে আছে সেই হাসি, আনন্দ যেন ঘিরে থাকতো ওঁকে। “লক্ষ্মণের শক্তিশেল” নাটকটা উনি লিখেছিলেন বছর ১৭-১৮ বয়সে কিন্তু ঐরকম অসাধারণ নির্মল হাসির নাটক আমি আর কোথাও পড়িনি, শুনিনি। বাঙালিরাই বোধহয় পারে রাম এবং রামায়ণ নিয়ে ঐরকম হাসির না...