আজকের গল্প - ইলিশের পানিখোলা

“হ্যাংলা হেঁশেল” পত্রিকাটা আমি মাঝে মাঝে এমনি গল্পের বইয়ের মতই পড়ি। যেমন সুন্দর আন্তর্জাতিক মানের পত্রিকা, তেমন তার ছবি, চকচকে পাতা, আর পুরোপুরি বাঙালিয়ানায় ভরা। তার সঙ্গে বিশেষতঃ অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদকীয় আর মৌসুমী সেনগুপ্তর রম্যরচনা।

তাই হ্যাংলায় যেবার ইলিশের সম্মন্ধে বেরোলো, আমি যে সেই ম্যাগাজিনটা পড়ে পড়ে প্রায় মুখস্ত করে ফেললাম তাতে আর সন্দেহ কি?

ঘটি বাড়িতে মানুষ হয়ে আমি ইলিশের খুব স্বল্প পরিসর কিছু খাবার খেয়েছি। ভাজা, সর্ষে ঝাল, খুব বেশি হলে পাতুরি বা ভাপা। তাও সেটা বেশি encouraged হতো না কারণ বাড়িতে ইলিশ সব সময়ে আগে একটু অল্প ভেজে নেওয়া হত। ইলিশের আসল স্বাদ পেতে হলে মাছটা না ভেজে রান্না করতে হয়, সে ভাপা বা তেল ঝোল যাই হোক। কেউ কেউ মাছটা বেশি ধোয়াও পছন্দ করেন না। 


আল্পনা হাবিবের ভিডিও দেখে বেশ কয়েকটা ইলিশের রান্না শিখলাম। তার মধ্যে হল ইলিশের ভাতুরি, যেতে পাতায় মোড়া মাছ ভাতের মধ্যে রান্না হয়। বলা বাহুল্য ভাত আর শুধু ভাত থাকে না, পাতার সুগন্ধ, ইলিশের সর্ষের সঙ্গে মিশে সেই ভাত একেবারে অমৃততুল্য হয়ে ওঠে। আরও করলাম ইলিশ চিতই, ইলিশ পোলাও। ইলিশ মাছের আচারটা বানানোর ইচ্ছে আছে শুধু এখনও enough সময় পাইনি ওটা করবার জন্যে।


তারপরে এল হ্যাংলায় ইলিশের edition। উফফ কি বই একটা! একটা ছবি আছে পদ্মা নদীর, এমন নদী যেখানে সত্যিই ওপার দেখা যাচ্ছে না ভাল করে, আর লেখা - “পদ্মার ইলশা রে, তুই আমায় দিওয়ানা বানাইলি রে…”! সে আর বলতে! কবে ইলিশ প্রথম খেয়েছি জানি না, কিন্তু ওই স্বাদ তো পুরো সত্ত্বা দিয়ে শুষে নিতে হয়। যাই হোক, যেটা বলছিলাম। ওই হ্যাংলাতেই একটা রেসিপি পেলাম দেবযানী চ্যাটার্জী আলম এর লেখা - “ইলিশের পানিখোলা”
বা ইলিশের সাদা ঝোল। বেশ কিছুদিন ওটা পড়েও মনে মনে সরিয়ে রেখেছিলাম। কারণ আর কিছুই নয় - পেঁয়াজ। না, আমি পেঁয়াজ খেতে খুবই ভালোবাসি, কিন্তু দুটো জায়গায় আমি পেঁয়াজ পছন্দ করি না - ফুচকা/চুড়মুড় আর ইলিশ। ওদিকে বনেদী বাড়ির ইলিশের রেসিপিগুলো করলাম, ইলিশ ভাতে করলাম, এমনকি ইলিশের টক ও বানাব বলে মনে মনে পাতাটা mark করে রাখলাম কিন্তু ওই পানিখোলাটা আবার টপকে গেলাম। অবশেষে কাল ভাবলাম লীলা মজুমদারের কথা। উনি বলেছেন খারাপ জিনিস যে appreciate করে তার থেকেও বাজে যে ভাল জিনিস appreciate করতে পারে না। উনি আরও বলেছেন খাবারের ব্যাপারে কোনও গোঁড়ামি রাখতে নেই। আমিও তাই ভাবলাম ইলিশ-পেঁয়াজের ব্যাপারে গোঁড়ামি রাখব না, করেই দেখি। আরও একটা কারণ অবশ্য তখন বিকেল ৫টা বাজে, আমাদের পেটের ছুঁচোরা ডন দেবে বলে জিম-এর পথে। এই পানিখোলা বানাতে লাগবে মাত্র - পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, সর্ষের তেল, আর নুন, আর অবশ্যই ইলিশ। বানিয়ে ফেললাম। ২০ মিনিট লাগল সব মিলিয়ে।


আর কি বলব - কাল রাতে ভাতটা বড্ড বেশি খাওয়া হয়ে গেছিল, বেশ খানিকক্ষণ পিপের মতো লাগছিল নিজেকে।


Comments

Popular posts from this blog

আজকের গল্প - আমার আপ্পাদাদুর বাড়ি

আজকের গল্প - “কাশি-ধাম”

আজকের গল্প - নেতাজী